ভাণ পত্রিকা BHAAN MAGAZINE
৫২ তম-ই-সংস্করণ ।। ৬৪ তম সংখ্যা ।। জানুয়ারি , ২০২৬
গৌরাঙ্গ দণ্ডপাট
সম্পাদক
- Phone:+1 (859)00000
- Email:info@example.com
পার্থ হালদার
সম্পাদনা সহযোগী
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
সোময়েত্রী চ্যাটার্জি
প্রচ্ছদ
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
পল্লব মিশ্র
প্রচ্ছদ অলংকরণ
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
দেবহূতি সরকার
অন্যান্য কাজে
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
সুচরিতা রায়
অন্যান্য কাজে
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
পূর্ণতা নন্দী
অন্যান্য কাজে
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
মৌলিকা সাজোয়াল
অন্যান্য কাজে
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
অয়ন্তিকা নাথ
অন্যান্য কাজে
- Phone:+1 (859) 254-6589
- Email:info@example.com
কর্তৃক
৮৬, সুবোধ গার্ডেন, বাঁশদ্রোণী, কলকাতা: ৭০০০৭০ থেকে প্রকাশিত।
- যোগাযোগ : ৯৬৪৭৪৭৯২৫৬
৮৩৩৫০৩১৯৩৪ (কথা /হোয়াটসঅ্যাপ)
৮৭৭৭৪২৪৯২৮ (কথা)
- Email : bhaan.kolkata@gmail.com
Reg. No: S/2L/28241 548
সূচিপত্র :
সম্পাদকের কথা
অবাধ্য ছেলেমেয়েদের নিয়ে বাপ-মা অতিষ্ট। অবাধ্যতা নিয়ে তারচেয়ে বেশি রুষ্ট রাষ্ট্রের নায়ক-নায়িকারা। চলো নিয়ম মতে। অ্যাক্ট লাইক রুহিতন-চিড়িতন। এ দেশ তাসের দেশ। ভিন্ন মতের কন্ঠ মাত্রই অবাধ্যতা। মতান্তর মানে জেল। খুনি ধর্ষক লুটেরাদের বেল। বিনা বিচারে ছয় বছর ওমর খালিদ। মুসলমানদের ঐ হল জায়গা। ও জবাব চেয়েছিল। প্রশ্ন তুলেছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল। আর এক ঠাকুর, অনুরাগের ঠাকুর ঘৃণার বাতাসে বারুদ দাগতে; সাঙ্গোপাঙ্গোদের নিয়ে মিছিলে স্লোগান তুলেছিলেন “গোলি মারো শালোকো”—এই শালারা মানে মুসলমান, এই শালারা মানে ওমর খালিদ, এর মানে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, এর লক্ষ্য আব্দুর গফ্ফার খান অথবা বেগম রোকেয়া। এর ঘৃণার গোলির তাক রয়েছে সীমান্তে আমাদের সার্বভৌমত্বের পাহারাদার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কর্নেল সোফিয়া কুরেশির দিকেও!
সীমান্তের ওপারে পাকিস্তান পোষিত জঙ্গিদের হুঙ্কার আর বিপরীতে দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর অনুরাগের হিংসায়, হেমন্ত শর্মার হুঙ্কারে, সিএএ-এর নামে, এন আর সি-এর নামে অভ্যন্তরীণ আতঙ্ক ও ভীতির পরিবেশ।
এ দেশ চন্দ্রশেখর আজাদের নয়। বীর বিপ্লবী আশফাকুল্লা খানের নয়। স্বাধীনতা সংগ্রামী আবেদী বানু বেগমের নয়। এ দেশ এবার ইংরেজদের পদলেহনকারী, ব্রিটিশের চাকর হয়ে তাদের শাসনের প্রতি অনুরক্ত সে কালের অন্ধভক্তের আধুনিক সংস্করণ অনুরাগ ঠাকুরদের। আজ হজরত মোহানী যে প্রতিটি জন-আন্দোলনের অন্তর হয়ে গেছেন তাঁর ইনকিলাব জিন্দাবাদে—একথাকে ভয় পেয়ে বিকৃতকামী জঙ্গিমনা, ধর্ম জ্ঞানহীন, মসনদমুখো হনুমানের দল সোনার দেশটাকে ছারখার করে দিতে চাইছে। কিন্তু এই বাধ্য রাখার খেলায় বিপুল ক্ষমতা নিয়েও এক পা এগিয়ে আবার এক পা পেছোতেও হচ্ছে ওদের। কবীর-দাদুর-চৈতন্য-পেরিয়ার-বাবা সাহেব-শ্রীরামকৃষ্ণের দল ওদের অন্ধ ঘৃনার আঁধারেও চোখ খুলে দিচ্ছেন। মানুষের প্রতিদিনের বাঁচার লড়াই, শ্রেণিজোট ওদের মর্জি মাফিক তছনছ করতে দিচ্ছে না। ইতিহাসে পাতা বিকৃত করতে গিয়ে ওদের পড়া হয়ে যাচ্ছে বীর বিপ্লবী সূর্যসেনের সঙ্গে লড়েছিলে কত মুসলিম ভাই! চট্টগ্রামের বৌদ্ধরা কোন আন্তরিকতায় জড়িয়ে রেখেছিলেন সেই বিপ্লবীদের! প্রকাশিত হচ্ছে রবিঠাকুরের গোরা-এর ভারত। আমাদের ভারতবর্ষ। তার মহতী মিলনের প্রেম ও ভক্তির আনন্দময় ভুবন ভুলানো মূর্তি, ঘৃণা আর বিদ্বেষকে জিতে নিচ্ছে। আসানসোলের সাম্প্রদায়িক হিংসায় সন্তান খোয়ানো পিতা, ক্ষমার গুণে ‘বুদ্ধ’ হয়ে উঠছেন। অজান্তেই হয়ে উঠছেন আসানসোলের ‘যীশু’। উড়িষ্যার খ্রিস্টান পাদ্রীকে বাধ্যত গোবর গোমুত্র খাওয়ানোর পর বিচারকের সামনে অজান্তেই ‘গান্ধী’ হয়ে উঠলেন তিনি। বলছেন, আমি ওদের শাস্তি চাই না। দয়া-ক্ষমা-ভক্তি-প্রেম-এর মহৎ অর্থ কোনো বিকারগ্রস্থ জঙ্গিদল বা জঙ্গিমনা রাষ্ট্রপ্রধানরা বোঝেনি কোনোদিন। এই বিধাতার অভিশাপ!
উত্তর প্রদেশের একটি দলিত দরিদ্র বছর চৌদ্দর বাচ্চা ছেলে, নাম তার অস্মিত গৌতম, জাতপাতের, বর্ণবাদী এবং ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে রুটি-কাড়া সরকারকে প্রশ্ন তুলে এমন আকাড়া অবস্থা করে ছেড়েছে, ওর কথা বলার অপরাধে এফআইআর হয়েছে। ইন্সটা আর ফেসবুকে, এত লাখ লাখ মানুষ ওই দলিত বাচ্চাটির বানী শুনছেন দেখে দেশবিরোধী বিদ্বেষ তৈরির কারবারিদের সে কী ভয়! অস্মিত, ভগৎ সিং-এর ভক্ত, বাবা সাহেবের ভক্ত। অস্মিত ওদের কেনা গোলাম গোদি মিডিয়াকে উপহাস করতে করতে, কংসের বংশদের মুখে ছাই দিয়ে; ‘বাসুদেব’ হয়ে উঠেছে দেখে আমি আমার দেশকে প্রণাম করি, গর্বিত হই। আমার অন্তরাত্মা ভরে যায়। ক্ষমতার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে নির্ভিক ও সোচ্চার হবার মতো সুন্দর আবিষ্কার হয়নি অদ্যাবধি। এই সুন্দরই আমাদের ভগবান।
বাংলাদেশি মুসলমান বলে হাটে বাজারে স্টেশনে বাঙালি শ্রমিক ঠ্যাঙানো এখন বিশেষত বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলোর আর.এস.এস শাখা সংগঠনের নিত্যদিনের কাজ। মধ্যবিত্ত বাঙালির গায়ে হাত না পড়লে বাঙালির অস্মিতা জাগা মুশকিল। হাজার হোক বাঙালি হলেও ওরা পরিযায়ী শ্রমিক। আমাদের বাড়ির কর্নফ্লেক্স কমপ্লেন খাওয়া বাবাই নয়!
এর পরেও বাংলায় এত সম্প্রীতি কীসের ভেবে ভেবে বাংলার গেরুয়াজীবীদের ঘুম উড়ে যাচ্ছে। দাঙ্গা* বাঁধাতে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডাদের দিয়ে মন্দির ভেঙে, প্রতিমা ভেঙে, ষাঁড় মেরে ধরা পড়ছে তারা। একবার নয়, বারবার। ট্রেনিং উত্তর প্রদেশের মতো নয় বোঝা যাচ্ছে। তার মধ্যে বাংলার সমন্বয়ী আবহাওয়া!
ওদিকে যোশীমঠের শঙ্করাচার্য তাঁর বিশাল দলবল নিয়ে মোদী আর যোগীর বাপবাপান্ত করছেন ওরা আন-রিয়াল ‘হিন্দু’ বলে। প্রকৃত হিন্দুর শত্রু বলে।
সরকারের কাজ যদি কেবল বাধ্যতা তৈরি হয় তাহলে ঘরে বাইরে অবাধ্যতা বাড়বে। এত মিথ্যা দিয়ে কতদিন মসনদ থাকে দেখা যাক! সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বদলে, নানা মত, নানা পরিধান-এর সংস্কৃতিকে নিজেদের স্বার্থে সঙ্কীর্ণ রাজনৈতিক করে তুললে ইতিহাস কথা বলবে। বলতে শুরু করেছে।
কলকাতার গালগপ্পোর বিংশ পর্ব - কিশলয় জানা

কলকাতার সাহেবি কেচ্ছা
কিশলয় জানা
আমাদের গ্রামের সতুঠাকুমা দুপুরবেলা খাওয়াদাওয়ার পর এক খিলি পান মুখে দিয়ে, আর ক-খিলি পান সঙ্গে নিয়ে এ-বাড়ি, ও-বাড়ি ঢুঁ মারতেন, তারপর মওকা বুঝে কোন এক বাড়ির দাওয়ায় বসে যেই বলতেন, “কী কেচ্ছা, কী কেচ্ছা মা গো !” অমনি দেখা যেত, আশেপাশে অনেক লোক জুটে গেছে। কেচ্ছার প্রতি এমনি মানুষের আন্তরিক টান যে, দেশে-দেশে, প্রাচ্যে-পাশ্চাত্যে কেচ্ছার যত শ্রোতা, ধর্মসভায়ও অত শ্রোতা ভিড় করেন না। সাধে কি-আর কেচ্ছা থেকে কিস্সা, আর কিস্সা থেকে গপ্পোকথার জন্ম হয়েছে। এই যে অধম লেখকও তো আসলে কিস্সার আদলে সেকেলে কলকাতার কেচ্ছাই শোনাতে বসেছি, তা-না-হলে আপনি পড়তেন ?
কলকাতার মতো জায়মান একখানি শহর, আর তাতে কেচ্ছার অভাব হবে, এমনটি ভাবাই অন্যায়। কথায় বলে, কেচ্ছা তার বাপকেও ছাড়ে না। চার্ণককেও ছাড়েনি। যদিও চার্ণক কলকাতার জনক ছিলেন না, তবে কলকাতা নামক অঞ্চলটি লাইমলাইটে আসার দিনগুলিতে প্রাথমিকভাবে তাঁর নামটি সুপরিচিত ছিল, ফলে তাঁকে নিয়ে কেচ্ছা রটবে না ? এই গালগপ্পোটি শুনিয়েছেন, ক্যাপ্টেন হ্যামিলটন, যিনি ছিলেন সেকেলে কলকাতার কেচ্ছার ভাণ্ডার, তার কতকগুলি সত্য, বেশিরভাগটিই অবশ্য নিজস্ব বিনির্মাণ। যাই হোক, কেচ্ছাটার কথা বলা যাক। চার্ণক তখন কিছুদিন মাত্র এসেছেন এ-দেশে, থাকেন পাটনার কুঠিতে। মাটির ঘরে থাকেন, সারাদিন কোম্পানির কাজ দেখেন আর বিকেল হলেই ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে পড়েন সান্ধ্য-ভ্রমণে, কখন-কখন পায়ে হেঁটেও যান। তখন এ-দেশে সতীদাহ-প্রথা প্রচলিত ছিলো। প্রায়ই নদীর ঘাটে-ঘাটে সতী হতেন এমন কত-না দুর্ভাগিনী। একদিন চার্ণক আরো কয়েকজন সঙ্গী-সাথী নিয়ে সান্ধ্যভ্রমণে বেরিয়েছেন, দেখেন একটি বছর পনেরোর বালিকা মূল্যবান শাড়ি-গয়নায় ভূষিত হয়ে সতী হওয়ার জন্য চলেছেন স্বামীর শবযাত্রীদের পিছু-পিছু। সদ্য-বিধবা মেয়েটি না-কি ঘোমটা সরিয়ে কাতর চক্ষে চার্ণকের দিকে তাকিয়েছিলেন, সে-চোখে সবিনয় অনুরোধ, প্রাণভিক্ষার আকূতি। মদনদেবও সেই-সময় বুঝি অলক্ষ্য থেকে পুষ্পবাণ নিক্ষেপ করেছিলেন, ফলে চার্ণক সঙ্গীসাথীসহ ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত করলেন মেয়েটিকে এবং দারুণ গণ্ডগোলের মধ্যে একফাঁকে মেয়েটিকে বলতে গেলে তুলে নিয়ে পালালেন। দেশীয় সমাজে এই ঘটনায় একেবারে ঢি-ঢি পড়ে গেল, তাতে থোড়াই কেয়ার করলেন চার্ণক। পরে তিনি মেয়েটিকে বিবাহ করেন এবং তাঁদের বেশ কয়েকটি সন্তান হয়। কোন-কোন মতে, মেয়েটি খ্রিষ্টান হতে চাননি, বরং তাঁর প্রভাবে চার্ণক পঞ্চপীরের শিষ্য হয়েছিলেন। কলকাতাতেও তাঁকে নিয়েই আসেন চার্ণক। এখানেই চার্ণকের বিবির মৃত্যু হয়। সেন্ট জনস্ গির্জা-সংলগ্ন গোরস্থানে জোব চার্ণকের এই বিবির দেহ সমাধিস্থ করা হয়। খাস কলকাতার এটিই আদি কেচ্ছা। তবে কিছুদিন পরেই দেশীয় মানুষদের মধ্যে গণ-অসন্তোষের ভয়ে সাহেবদের দিশি মেয়েকে বিবাহ করাকে কোম্পানি বে-আইনি বলে সার্কুলার জারি করে। এর অন্যথা করায় জন লিচল্যান্ড নামের এক উচ্চপদস্থ কর্মচারি চাকরি খুইয়ে শেষে বেকার অবস্থায় সুরাটে মারা যান। অথচ, হেস্টিংসের বন্ধু কর্ণেল পিয়ার্স পান্না বেগমকে বিবাহ করে সুখেই কাল কাটিয়েছিলেন। তাঁদের এক ছেলেও হয়। অর্থাৎ, আইন সবসময় সকলের জন্য প্রযোজ্য নয় সেকালে, অর্থ-বিত্ত-সামাজিক প্রতিপত্তিরও একটা প্রভাব ছিল, যার দরুণ ব্যক্তি-বিশেষে আইনের ভূমিকা বদলে যেত।
কোম্পানি আমলে কেচ্ছার কমতি ছিল না। এ-ব্যাপারে উচ্চ-মধ্য-নিম্ন কোন পদস্থ লোকদেরই অরুচি ছিল না। হেস্টিংস-এর কথাই ধরা যাক। সবেমাত্র এদেশে আসছেন। তখন সদ্য তাঁর স্ত্রী-বিয়োগ হয়েছে। বছর পঁয়তাল্লিশ বয়স। জাহাজে জনৈক মি. ইম্হফের স্ত্রীকে দেখে একেবারে পাগল হয়ে গেলেন। কেবল পাগল হলে কিছু বলার ছিল না, তিনি আবদার করে বসলেন যে, ইম্হফকে যে-ভাবেই হোক স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে হবে, আর তারপরেই তিনি মিসেস ইম্হফকে বিবাহ করবেন। মি. ইম্হফ্ প্রথমে মামার বাড়ির আবদার না-কি বলে হেস্টিংসকে ভাগিয়ে দিলেন। কিন্তু বেশিদিন পারলেন না। জাহাজ কলকাতায় ভিড়তে-না-ভিড়তেই তাঁর মত বদল হল। কলকাতায় নেমেই মি. ইম্হফ্ স্ত্রীকে ডিভোর্স দিলেন। আর হেস্টিংস নাচতে-নাচতে তিরিশ বছরের সুন্দরী প্রাক্তন মিসেস্ ইম্হফফ্কে বিবাহ করলেন। অবশ্য পূর্বরাগ কেবল হেস্টিংসের দিক থেকেই ঘটেছিল, না-কি মিসেস ইম্হফের দিক থেকেও ‘রাধার কী হইল অন্তরের ব্যথা’ জেগেছিল, তা জানা যায় না। আর মি” ইম্হফ্-ই বা মত বদলালেন কী কারণে, সে-ব্যাপারে স্পষ্ট কিক্সহু বলা যায় না। কেউ বলেন, হেস্টিংস ভয় দেখিয়েছিলেন, কেউ-কেউ বলেন, তা নয়, এই অসাধ্যসাধন করেছিল, সেই চিরকেলে টঙ্কা। স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার বিনিময়ে হেস্টিংস নাকি মি. ইম্হফকে সে-যুগের বিচারে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়েছিলেন, প্রায় দশ হাজার পাউণ্ড। মি. ইম্হফ্ বুদ্ধিমান মানুষ, তিনিও হয়তো জানতেন, বউ গেলে বউ পাওয়া যায়, কিন্তু টাকা গেলে টাকা পাওয়া যায় না রে পাগলা ! কলকাতায় পা দিতে-না-দিতেই হেস্টিংস-এর এই কেচ্ছা বেশ ছড়িয়ে পড়েছিল সাহেবি-মহলে। ক্লাবে বা টাভার্ণে সান্ধ্য খানা-পিনার আসরে দীর্ঘদিন মুখরোচক আলোচনার বিষয় ছিল এটি।
কেচ্ছার ব্যাপারে হেস্টিংস অবশ্য ছিলেন নেহাতই নভিশ, এ-ব্যাপারে ফিলিপ ফ্র্যান্সিসের ( ১৭৪০-১৮১৮ ) তুল্য খুব কমই ছিল। অনেক পাঠকই তাঁর নাম শুনে মুচকি হাসছেন, মনে পড়ে যাচ্ছে হয়ত ডুয়েল-লড়ার কাহিনি। ফ্র্যান্সিস এ-দেশে এসেছিলেন গভর্নর-জেনারেল পরিষদের প্রথম সদস্য হিসেবে, ছিলেন বিরোধী দলের ডাকাবুকো নেতা। এদেশে আসার আগে ‘জুনিয়াস’ ছদ্মনামে বিলিতি কাগজে নিয়মিত যে-সমস্ত কলাম লিখতেন, তাতে ঘুম উড়ে যেত অনেক রাজনৈতিক নেতার। লর্ড নর্থ তাঁকে পাঠিয়েছিলেন এখানে। সাধারণ পরিবারের সন্তান, কিন্তু উচ্চাশী। অর্থের চেয়েও তিনি ভালোবাসতেন সামাজিক সম্মান ও প্রতিপত্তিকে, আর নারীকে। কলকাতায় পা রাখার আগে ফ্র্যান্সিসের একটি সুখী জীবন ছিল। পাঁচটি কন্যা এবং একটি পুত্র ছিল। স্ত্রী-সহ তাদের সকলকে দেশে রেখে এ-দেশে এসেছিলেন ছয়-সাত বছরের জন্য। এদেশে আসার পর তাঁর অন্য কীর্তিকলাপের কথা না জানা গেলেও, হেস্টিংস-এর সঙ্গে যে ছিল তাঁর আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক, সে-কথা সকলেই জানে। ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ অগাস্ট বর্তমান আলিপুরের ডুয়েল অ্যাভিনিউতে হেস্টিংস এবং ফ্র্যান্সিস পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে ডুয়েল লড়াই করেন। আহ্বান যদিও এসেছিল ফ্র্যান্সিসের পক্ষ থেকেই, তবে হেস্টিংস এই ব্যক্তিটিকে অন্তর থেকে ঘৃণা করতেন, আবার ভয়ও করতেন। যাই হোক, সেদিনের ডুয়েল লড়াইতে ফ্র্যান্সিসকে আহত করে হেস্টিংসই জেতেন। এ-হেন ফ্র্যান্সিস তার বছর দুয়েক আগে কলকাতার জনৈক সম্ভ্রান্ত রাইটার মি. গ্র্যাণ্ডের সুন্দরী পত্নী নোয়েল ক্যাথারিন ওয়েরলির সঙ্গে গোপন অভিসারে মেতে ওঠার সময় একবার ধরা পড়লেন হাতেনাতে। বাঁশের মই লাগিয়ে মিসেস গ্র্যাণ্ডের শয়নকক্ষে দরজা বন্ধ করে চলছিল তাঁদের প্রেমলীলা। আয়ার সন্দেহ হওয়ায় সে শোরগোল তোলে আর তাতেই পালাতে গিয়ে জমাদারের হাতে ধরা পড়েন পরবর্তীকালের স্যার ফিলিপ ফ্র্যান্সিস। এই কেচ্ছা কোর্ট অবধি গড়ায়। নিজের সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ায় গ্রাণ্ড পনেরো লক্ষ সিক্কা টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন ফ্র্যান্সিসের কাছ থেকে। হিকির স্মৃতিকথা থেকে জানা যায়, ফ্র্যান্সিস এবং গ্র্যান্ড দুজনেই হিকিকে তাঁদের মামলা পরিচালনার ভার নিতে বললেও তিনি রাজি হননি। এই মামলার বিচারপতি ছিলেন স্যার এলিজা ইম্পে, স্যার রবার্ট চেম্বার্স এবং মি. হাইড। মামলায় সাক্ষী-সাবুদ যথেষ্ট ছিল, চেম্বার্স যতই চেষ্টা করুন না কেন, ফ্র্যান্সিসের কিছু অর্থমূল্য দণ্ডও হয়, তবে শেষ মুহূর্তে কোর্টের বাইরে গ্র্যান্ড এবং ফ্র্যান্সিস বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলায় মামলা ডিসমিস করে দেওয়া হয়। ফ্র্যান্সিস কিছুদিন ক্যাথারিনের সঙ্গে থাকলেও ক্যাথারিন পরে বিলেত, তারপরে ফ্রান্সে চলে যান এবং সেখানে নেপোলিয়নের পররাষ্ট্র-সচিব তেলিরাঁদকে বিবাহ করে কিছুকাল কাটিয়েছিলেন। ফ্র্যান্সিস পরে দেশে ফিরে গিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। তবে তাঁর সঙ্গে জুড়ে যাওয়া কেচ্ছা বহুকাল কোম্পানির অফিসারদের মুখরোচক আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল।
ফ্র্যান্সিসের কাহিনি বলেছেন যে হিকি, আর কিছুটা বাস্টেড, সেই হিকির নিজের জীবনের কেচ্ছাও সে-কালে লোকের মুখে-মুখে ঘুরত। উইলিয়ম হিকি ছিলেন একাধারে অ্যার্টনি, হিকি’সজ্ গেজেটির সাংবাদিক-সম্পাদক, সেইসঙ্গেই কোম্পানি-শাসনের গোড়ার যুগের অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। কলকাতার সুপ্রীমকোর্ট স্থাপিত হওয়ার পরে সেখানে অ্যার্টনি হিসাবে কাজ করার সুবাদেই তিনি ১৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় আসেন। মাঝে দু’একবার বিলেতে যাওয়া ছাড়া ১৮০৯ পর্যন্ত তিনি কলকাতা শহরেই বাস করতেন। লাট-বড়লাট থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ অভিজাত মানুষদের সঙ্গে যাঁর নিত্য ওঠাবসা, সেই হিকি শেষপর্যন্ত এক হিন্দুস্থানী মেয়ের প্রেমে পড়লেন। মেয়েটিকে তিনি ‘জমাদারনী’ বলেছেন, যে তাঁর আইরিশ বন্ধু কার্টারের দেশীয় সঙ্গী ছিলো। কার্টার অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরে গেলে হিকি মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করেন যে, সে তাঁর সঙ্গে থাকবে কি-না। তখন হিকির স্ত্রী-বিয়োগ হয়েছে। মেয়েটি তাতে সানন্দে রাজি হয় এবং সেদিন থেকে তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতোই একত্র বাস করতেন। যদিও তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিবাহ হয়নি। সম্ভবত বিবাহ করে কোম্পানির রোষানলে পড়তে চাননি হিকি। যদিও পরে অন্য কারণে সেই রোষানলে পড়ায় হিকিকে জাহাজে তুলে দিয়ে পত্রপাঠ ফেরৎ পাঠায় কোম্পানিই। পথিমধ্যে জাহাজে হিকির মৃত্যু হয়। তার আগে অবশ্য তাঁর আদরের ‘জমাদারনী’র মৃত্যু হয়েছিলো/। মেয়েটি সম্ভবত নিম্নবর্গের কোন মহিলা ছিল এবং অবস্থাগতিকে পুরুষের মনোরঞ্জন করাই ছিল তাঁর পেশা। সে যাই-হোক, খাস কলকাতায় হৈ-চৈ হতেই প্রিয় জমাদারনীকে নিয়ে হিকি চুঁচুড়ায় গিয়ে বাস করতে থাকেন এবং নিজে কলকাতা-চুঁচুড়া যাতায়াত করতেন। কোম্পানি দেশিয় বিবিকে বিবাহ করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, উপপত্নী রাখার ক্ষেত্রে নয়, সে-কারণে সম্ভবত কেচ্ছা রটলেও হিকির অ্যার্টনির চাকরি যায় নি। তবে এই রোমান্স বেশিদিন স্থায়ী হয় নি। ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জমাদারনীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তাঁকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার অনেক চেষ্টা করেন হিকি। কলকাতায় নিয়ে আসেন। একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিয়েই সম্ভবত ধাত্রীর ভুলে জমাদারনী মারা যান। ছেলেটিও পরের বছর কয়েকদিনের অসুখে মারা যায়। তবে হিকির কেচ্ছা আদতে এক নিঃসঙ্গ প্রেমিক পুরুষেরই কাহিনি। হিকি আর যাই হোক, হেস্টিংসের অনুগত সহচর বারওয়েল নয়, যাঁর প্রসঙ্গে রবার্ট ক্লাইভ বলেছিলেন, বন্ধুপত্নীদের সঙ্গে শোওয়া ছাড়া বারওয়েলের আর কোন গুণ আছে বলে তো জানি না !
সেকালে এবং একালেও কেচ্ছার সিংহভাগ জুড়েই ছিল অবৈধ সম্পর্ক কিংবা চারিত্রিক অসততার কাহিনি। সাধারণ সাহেবদের এমন কত ঘটনা-দুর্ঘটনার কথা সেদিনের কলকাতার ইতিহাস-লেখকেরা মনে রাখেননি, উল্লেখ করার প্রয়োজনও বোধ করেননি, তার কারণ, সমাজের বিচারে তথাকথিত উচ্চবর্ণের অভিজাতদের গোপন অন্ধকারের ছবি সাধারণ মানুষের কাছে যতটা মুখরোচক মনে হয়, সাধারণ মানূষদের জীবনের গপ্পো ততটা নয়। এদিক থেকে কেচ্ছার মাধ্যমে আমরা উচ্চবর্গদের অনেকখানি নামিয়ে আনতে পারি, যে-ইচ্ছে আমাদের অবচেতনে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষার মতো জড়িয়ে থাকে, উপযুক্ত সুযোগ পেয়ে কেচ্ছার মাধ্যমে তা পরিতৃপ্ত হয়। এই কারণেই কেচ্ছার আসলে কেবল দেশি-বিদেশি সাহেব-মেমসাহেবদের কথা।
বলা বাহুল্য কেবল যে সাহেবদের নিয়েই কেচ্ছা রটত তা নয়, মেমসাহবদের নিয়েও কেচ্ছা কম ছিল না। ফ্র্যান্সিসের সূত্রে ক্যাথরিনের কথা আমরা বলেছি, আর-একজন ছিলেন বেগম জনসন। সেকালে লালদিঘির উত্তরদিকে ছিল তাঁর অট্টালিকা। এঁর বাবা এডওয়ার্ড ক্রুক করমণ্ডল উপকূলে ফোর্ট সেন্ট ডেভিডের গভর্ণর ছিলেন। ইনি অবশ্য খাঁটি ইংরেজ ছিলেন না, তাঁর মা এবং ঠাকুমা ছিলেন এদেশীয়। তবে সাহেবপাড়ায় তাঁর উপস্থিতি এবং একের পর এক বিবাহ কেচ্ছা-লিখিয়েদের ভুলিয়েই ছেড়েছিল যে, তিনি খাঁটি ইংরেজ নন, অ্যাংলো-ইণ্ডিয়ান। এখনও হেস্টিংস স্ট্রিটের মোড়ে সেন্ট জন চার্চে তাঁর সমাধি আছে, যেখানে লেখা আছে এঁর একাধিক বিবাহ এবং ততোধিক প্রণয়ীর কথা। তাঁর স্বামীরা অনেকেই স্বনামধন্য। কেউ কলকাতার গভর্নরের ভাইপো, কেউ অ্যাডমিরাল, কেউ চার্চের যাজক। মাঝখানে সিরাজ কর্তৃক বন্দি হয়ে তাঁর হারেমে সাঁইত্রিশ দিন কাটান। পরে সিরাজের মায়ের দাক্ষিণ্যে মুক্তি পেয়ে প্রথমে চন্দননগর, পরে আবার কলকাতায় আসেন। সেকালে লালদিঘির উত্তরদিকে সন্ধ্যে হলেই জ্বলে উঠত রূপের আগুন, যে আগুনে পোড়ার জন্য স্বচ্ছায় হাজির হতেন কত না সম্ভ্রান্ত ইংরেজ পুরুষ। কাউকেই ফেরাতেন না বেগম জনসন। তবে সান্নিধ্য-সুখই দিতেন, বেশিদূর এগুতে দিতেন না। সেটাই ছিল তাঁর ব্যক্তিগত স্ট্র্যাটেজি পুরুষ-পতঙ্গকে ধরে রাখবার। শাঁসালো সঙ্গী ছাড়া আর কাউকেই পাত্তা দিতেন না তিনি, যেমন পাত্তা দিতেন না তাঁকে নিয়ে তৈরি হওয়া অসংখ্য কেচ্ছাকে।
পানু পাল: জনজাগরণের নৃত্য ও নাট্য দ্বিতীয় পর্ব - মধুমিতা পাল

পানু পাল: জনজাগরণের নৃত্য ও নাট্য
মধুমিতা পাল
এবার আসি তার বিখ্যাত সৃষ্টি ‘‘ভোটের ভেট’’ নাটকটা নিয়ে। ‘ভোটের ভেট’ নাটক নির্বাচনী পথনাটক হিসেবে প্রথম বাংলার নির্বাচনী পথনাটক।
‘ভোটের ভেট’ নাটকটি একটি দলিল, এটি ইতিহাসের সাক্ষী। এ পথনাটকে নির্বাচনী সভা মঞ্চে ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। হাজারো মানুষের বক্তব্যকে তিনি নির্বাচনের মঞ্চে এনেছিলেন সুনিপুণভাবে, যাতে মানুষ অনুপ্রাণিত হন, সেখানে মানুষের ঢল নামে। আইপিটিএ-র মূল বক্তব্য—ফর দ্য পিপল অফ দ্যা পিপল বাই দ্যা পিপল। একেই সঙ্গী করে তিনি এগিয়ে চলতেন তার নাটকের কাজে। ‘ভোটের ভেট’ নাটকটিতে চারটি চরিত্র আছে যাতে অভিনয় করেছিলেন পানু পাল, উৎপল দত্ত, উমানাথ ভট্টাচার্য্য আর ঋত্বিক ঘটক। মহেশতলায় দিনরাত রাস্তায়-মাঠে-বস্তিতে অভিনীতি হতে থাকল ‘ভোটের ভেট’ নাটকটি।
এই ‘ভোটের ভেট’ নাটক নিয়ে একটি যুগান্তকারী লেখা আছে. “Panu Pal” as well as Utpal Dutt Meldi describes IPS Pioneer report in poster plays and agit -props play. Sova sens article quote even further to criticize IPTA and point out his obvious contradictions obviously what is highlighted as IPTA Pioneer achievement role in poster play, agit prop plays and performance in the suburban working class areas, Panu Pal. the initiator and one of the Pioneer search plays top of their interest in agit prop plays and their subsequent experience articles (“Little theatre group and I, Little Theatre Ami”) although I’m taking on a larger Canvas also describes his experience with agit props plays with the IPTA. Utpal Dutt who writes and therefore Panu pal and I infected by the real IPTA concern for the people political struggle prepared 2nd Street corner play and descended on the suburb of maheshtala, where the people are mostly tailors and sprinkling of workers from the Bata shoe factory nearby. that time Epic theatre President- Shri Satyajit Roy Secretary- Shrimoti Sova Sen, editorial board- Sri Tapas Sen, Shri Satyajit Ray, Sri Rittik Ghatak, Sri Ashok Sen, Sri Ashok Mitra.
এবার আমি আইপিটিএ-র আসাম স্কোয়াড নিয়ে কিছু প্রসঙ্গ অবতারণা করব এবং তার বিষয়ে কথা বলব। আসামে শ্রী জ্যোতি প্রসাদ আগারওয়ালাকে সভাপতি, হেমাঙ্গ বিশ্বাসকে সাধারণ সম্পাদক এবং যুগ্ম-সম্পাদক নগিন কাকতি এবং মনি ভট্টাচার্যকে অফিস সম্পাদক করে গণনাট্য সংঘের প্রথম প্রাদেশিক কমিটি গঠিত হয় ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে।ডিব্রুগড়ে গণনাট্য সংঘের দ্বিতীয় প্রাদেশিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৫ সালে। চারদিনের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রাদেশিক সম্মেলন। প্রথম সমাবেশেই হেমাঙ্গ বিশ্বাসের ডাকে দাদুভাই অর্থাৎ পানু পাল চলে গিয়েছিলেন আসামে ভারতের সঙ্গে চা শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করার জন্য। ওখানে থেকে সাদরি ভাষায় নাটক লিখে ফেলেন তার নাম ‘বদলা লেনা’। দিনের পর দিন ওখানে থেকে তাদের সাথে ওয়ার্কসপ করিয়ে তাদের ভাষা নিজে রপ্ত করে নাটকটা লেখেন এবং তাদেরকে দিয়ে নাটক করান। এটা একটা ঐতিহাসিক কাণ্ড বটে, কারণ আমি যতগুলো লেখায় পেয়েছি, তার আগে শ্রমিকদের ইউনিয়নকে দিয়ে নাটক করানোর নজির নেই ভারতবর্ষে। আসামের জোরহাট কলেজের প্রিন্সিপাল দেবব্রত শর্মা একটি ম্যাগাজিন দেন এবং তার কাজ আসামি ভাষায় পথনাটক নিয়ে। তাতে পানু পাল অবশ্যম্ভাবী চলে এসেছেন। সে নাটক সাধারণ মানুষ শ্রমিক মানুষ মজদুর মানুষদের সামনে এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে মানুষের ঢল নাকি নেমেছিল। আসামের লোকনাথ গোস্বামী যার কাজ হেমাঙ্গ বিশ্বাসকে নিয়ে, তার একটি বইতে পাওয়া যায় দার্জিলিং নগরে সভাপতিত্ব ডিব্রুগড়ে একটা সম্মেলনে উপস্থিত কবি ছিল নাম আছিল না টিকার নাম আছিল বদলালে না চাহো অনুবাদ এক কবি আলোক জীবনালেখ্য অবলম্বনে বিভিন্ন চিত্র সাদরি ভাষা সংলাপত দানি ধবা হইছিলো সে শেষ দৃশ্য মালিক মহাজন আব্বু বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক অভিযান দি ক্লাইমেক্স সৃষ্টি কবে হয়েছিল এই এর ঘন্টিয়া নাটিকা মজবুত আলোড়ন সৃষ্টি কবে ছিল নাটক অফ সাফল্য পাবে আমার সভাপতি জ্যোতিপ্রসাদ মালিক জ্যোতিপ্রসাদ আমাক অভিনন্দন জানাই ছিল’।
ছোটদের ছবি: না-শৈশব শিশুকাল - অরিত্র দে

ছোটদের ছবি: না-শৈশব শিশুকাল
অরিত্র দে
সেদিন ১৯৪২ সাল। সেদিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম। ততদিনে নাৎসিদের দখলে। চলছে ইহুদি যাতন। বাড়ছে ইহুদি নিধন। একদিন, প্রতিদিন। অগত্যা জীবন আর মরণের লুকোচুরি। আনা তাঁর ডায়েরিতে নাম দিয়েছে ‘গুপ্ত মহল’। লুকোচুরি তখন খেলা ছিল না। মজা ছিল না। শৈশব ছিল না। ভয়ংকর ছিল। বীভৎস ছিল। বাস্তব ছিল। ছোট্ট আনার পৃথিবী বড় আনার ডায়েরিতে। একঘেয়ে। বিবর্ণ। অন্ধকার। এক কথায়, ‘খুব একা লাগছে’।
দুর্যোগ আসে। কেটেও যায়। মড়ক লাগে। থেমেও যায়। বড়দের কাছে ‘বড় খবর’ আসে। ছোটদের ছুটি পড়ে যায়। হৈহৈ বিকেলের পেটকাটিরা কাটা পড়ে। সব পাখি ঘরে ফেরে। সূয্যি নামে পাটে। একা একা সময়ের পাণ্ডুলিপি ধূসর হয়ে যায়। হু হু বুকে হাঁপরের আগুন কাল গলিয়ে কালি বের করে। চুপিসাড়ে। এককোনে। বড়রা জানতেও পারে না। সে কালি কেমন কালি? যেমন ইরানের ছোট্ট আলী। বোন জাহরার এক জোড়া জুতো সেলাই করতে হবে। নিয়ে গেল বাজারে। সাফাইকর্মী ভাবলো ‘ময়লা’। নিয়ে চলে গেল। জাহরাকে কী বলবে আলী? কী বলবে গরিব আব্বু-আম্মুকে? তাই আবার লুকোচুরি। নিজের জুতোই নিজেদের হল। কারোরই স্কুল কামাই হল না। গরিব পরিবার। তার মধ্যেই ছোট্ট আকাশ। অসীম। আদুরে। আমরণ। হিসেবের খাতা পেরিয়ে বেহিসেবি বনেদীয়ানা। তারপর আসে সেই একদিন। যেদিন আলী জাহরাকে কথা দেয়, স্কুলের অ্যানুয়াল ম্যারাথনে সেকেন্ড হলেই জাহরার নতুন জুতো পাক্কা। জাহরার এক আকাশ মনে আর আনন্দ ধরে না। কিন্তু ম্যারাথনে আলী প্রথম হয়। তাই জাহরার নতুন জুতো হয় না। ছোট্ট আকাশ কালো করে আসে। মেঘের পরে মেঘ জমে। শুধু অকালবর্ষণে নালা দিয়ে কাগজের নৌকা চলে না। চলে মাজিদ মাজিদির সেলুলয়েড। ‘চিলড্রেন অব হেভেন’। আরেকবার নিও রিয়ালিজমের ঘোর লাগে পৃথিবীতে। মনে পড়ে ভিত্তোরিও ডে সিকার ‘বাইসাইকেল থিভস’। সেবার ইতালি। এবার ইরান। এই প্রথমবার অস্কারে সিলেক্টেড। বেস্ট ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ ফিল্ম সেকশনে। সালটা ১৯৯৮। কিন্তু সেবার অস্কার পায় ইতালি। ইরান নয়। অস্কার পায় রোব্যার্তো বেনিনির ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’। যুদ্ধকালীন শৈশবের ছবি। আরেকজন ‘আলী’র ছবি।
‘চিলড্রেন অব হেভেন’ প্রায় পারফেক্ট ছোটদের ছবি। তাই বড়দেরও পছন্দের ছবি। ছবিতে আমেরিকার বদ্ধ বিনোদন নেই। অবিশ্বাসের আড়ম্বর নেই। চৌখস চোখাচোখি নেই। একবুক বাতাস আছে। একছাদ হারিয়ে যাওয়া আছে। একজীবন আগলে রাখা আছে। তাই মনে পড়ে সেই সময়। যখন ছবির ছোটরা ছোটই ছিল। শোকেসে সাজানো পুতুল ছিল না। তাই ইরানের ছবি কিন্তু বিশ্বমান। ইরানের শিশু কিন্তু চেনামুখ। ইরানের গলি কিন্তু নিজের পাড়া। সেই গলি গিয়ে মেশে ইতালির চৌহদ্দিতে। সেখানে কেউ বড় হয়ে ভাঁড় হয়, কেউ ভাঁড়ামো করেই বড় হয়। রোব্যার্তো বেনিনি স্কুলবালক না হলে আগে থেকেই এতো সুন্দর হন না। পারেন না মজা করে সমালোচনায় মজে যেতে। পারেন না শত্রুদের বাড়া ভাতে মুঠো মুঠো ছাই ফেলে দিতে। তিনি বোকা সাজেন। তিনি জানেন যে তিনি বোকা সাজেন। বেনিনি জন্মেছেন ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ করার জন্যেই। করানোর জন্যেই।
দুটো ভাগে ছবি। একটা হাস্যরস। অন্যটা কান্নার হাসি। বেনিনি এখানে গুইডো। যে গুইডো তিরিশের ইতালির হোটেল বয়। ঠিক যেন চ্যাপলিন। একটা গাড়ি। ব্রেকফেল করে পালাচ্ছিল। যাওয়া গাড়ি তাকে শহরে নিয়ে আসে। সবাই ভাবে কেউকেটা। দুম করে সে সুন্দরী ডোরার প্রেমে পড়ে। তার বাগদত্তা সেই ফ্যাসিস্ট শহরেই ক্লার্ক। আর তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। বন্ধু পাতায় জার্মান ডাক্তারের সাথে। রোজ হোটেলে এসে তার ভালোবাসার হেঁয়ালি শোনায়। ডোরার জীবনের একগুঁয়ে ফ্যাসিস্টকে বদলে দিতেই তার নিখুঁত ভবিতব্য তাকে পাঠিয়েছে শহরে।
প্রথমে একটানা চওড়া হাসি। বেশিরভাগ সময়ই কথা নেই। কথা বলবে কে? একটা টুপি? যার ভাগ্যে শুধুই ছুটে চলা? তবে একটা সংবাদ পাওয়া যায়। গুইডো একজন ইহুদি। ডোরা তাকে ভালোবাসতে আসে। ছটফট করে ব্যাংকোয়েটের নিচে দেখা করবে বলে। দেখা করেও ফেলে। ঠোঁটে ঠোঁট মেশে। ফিসফিসানি মন ছুঁয়ে যায়, যখন ডোরা বলে, ‘আমাকে নিয়ে চলো!’ গুইডো শহরে এসে সহজেই মানিয়ে নেয়। লোকে ভাবে স্কুল ইন্সপেক্টর বুঝি! লাভের গুড় গুইডোই খায়। চটজলদি ভাষণে নিজের বিরাট কানজোড়া আর অপূর্ব নাভির গুনগান করে। সময় বুড়িয়ে যায়। পর্দা দৃশ্যহীন হয়। গুইডো আর ডোরা এখন বিবাহিত। তাদের পঞ্চমবর্ষীয় বালক জশুয়া। সালটা ১৯৪৫। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবে হবে করছে। শহরে ইহুদীদের দুর্দশা। নাৎসিরা শহর ঘিরে আছে। মৃত্যু শিবিরে জ্যান্ত যাচ্ছে রোজ। ট্রেনে চেপে। গুইডো আছে সেই ট্রেনে। সঙ্গে ছেলে জশুয়াও। ছেলের যুদ্ধপোড়া ছেলেবেলায় একটু বার্নল। ভয়ের প্রদর্শনী। ভয়ের অভিনয়। ভয়ে ভয়ে চাওয়া। যদি কোনো একদিন ট্রেন মিস করে তারা? যদি পিছনে পরে থাকে? ডোরা ইহুদি নয়। অগত্যা নাৎসিনরক থেকে আপাতমুক্ত। তবু স্বামী-ছেলের সঙ্গে চলতে হয়। দেখতে হয় স্বজনবিয়োগ। ইশ, যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হতো! শিবিরে পুত্রপ্রেমী গুইডোর পালা জমে ওঠে। সেজে ওঠে বিশাল খেলাঘর। খেলার পয়েন্ট ঠিক হয়। ঠিক হয়, যে প্রথম ১০০০ পয়েন্ট পাবে সে একটা যুদ্ধট্যাঙ্ক পাবে। খেলনা নয়, সত্যি। সেই ট্যাঙ্কে চড়েই জশুয়া দাপিয়ে বেড়াবে গোটা শহর। জার্মান থেকে ইতালিয়ান ভাষায় অবলীলায় অনুবাদ করে ফেলে গুইডো। ছেলের ভয়টা কাটানো নেহাতই দরকার। মৃত্যুশিবিরের যমদূতরাও তাই আড়ালেই থেকে যায়। তাই খেলার নিয়মেই জশুয়া গুড়ি মেরে থাকে। নতশির। স্থির।
এই ছবি ইতালির দক্ষিণপন্থীরা পছন্দ করেননি। বিষেদগার করেছেন। হিউমারের সাথে হলোকাস্টের সম্বন্ধ ভালো চোখে দেখেননি কান চলচিত্র উৎসবের বামপন্থীরা। অকপট মানুষমনের স্বার্থে রাজনীতিকে সরিয়ে রাখাটাই হয়তো না-পসন্দ। তবু এ ছবি বিষয়গুনে সত্যি। সার্থক। গুইডোর হাতে বন্দুক থাকলে নাৎসিরাই নিশানা হতো। গুইডোর সেনাসামন্ত থাকলে তাদের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যেতো। কিন্তু গুইডো ভাঁড়, তাই ভাঁড়ামিই তার শক্তিশেল। এ ছবিতে ভারী হিউমারের চাপে হলোকাস্ট মৃদু। ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ আসলে মানুষের আত্মা, নাৎসিদের নয়। স্বপ্নভঙ্গের পরেও নির্ঝরের একমুঠো সোনারোদ বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা। একটু আগামী হাওয়ার হু হু। পরে যারা বড় হবে, তারা আগে ভালো করে ছোট হোক।
জমে গেছে আরিয়ানের ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’ - অজন্তা সিনহা

জমে গেছে আরিয়ানের ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’
অজন্তা সিনহা
বাবা স্বয়ং বলিউড বাদশা, যাঁর ক্রেজ জীবনের ছয়টি দশক পার করে ফেলার পরও ক্রমবর্ধমান–তাও নিছক দেশের সীমানায় নয়, সারা বিশ্বে। তাই আরিয়ান খান যখন ঘোষণা করেন যে তিনি ওয়েব সিরিজ নির্মাণে নামছেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন খান খানদানই হবে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ব্যাপারটা ঘটল বেশ কিছুটা অন্যরকম। হিন্দি বিনোদন দুনিয়ায় আরিয়ানের ডেবিউ, তাঁর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’ নিয়ে বরং উল্টোটাই শোনা গেল। সিরিজে অভিনয় করেছেন এমন একদল খ্যাতনামা তারকা, যাঁরা প্রত্যেকেই আরিয়ানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর কাজের প্রতি দক্ষতা ও আনুগত্য, অক্লান্ত পরিশ্রম, সিনিয়র অভিনেতাদের প্রতি আরিয়ানের শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার ইত্যাদি বিষয়গুলিই আলোচনায় উঠে এসেছে বারবার। শাহরুখ-পুত্র হওয়ার এতটুকু দম্ভ তিনি সেটে দেখাননি অথবা সেই বাবদ কোনও বাড়তি সুবিধাও নেননি।
গল্প মোটামুটি এইরকম–দিল্লির অভিনেতা আসমান সিংহের সফল অভিষেক ঘটে প্রযোজক ফ্রেডি সোডাওয়ালার হাত ধরে। এরপর আসমান সুযোগ পায় করিশ্মা তলওয়ারের বিপরীতে, করণ জোহরের ছবিতে। কিন্তু তাকে মোকাবিলা করতে হয় ফ্রেডির বিশেষ চুক্তি, করিশ্মার বাবা বিখ্যাত অভিনেতা অজয় তলওয়ারের হস্তক্ষেপ, দুজনের বেড়ে ওঠা প্রেম এবং নানা অপ্রত্যাশিত জটিলতার সঙ্গে। ম্যানেজার সানিয়া এবং বন্ধু পারভেজ সহ আসমানকে বলিউডের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। এদিকে আসমান ও করিশ্মার সম্পর্ক গভীর হলে, করিশ্মার বাবা অজয় তলওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে আসমানের কেরিয়ার নষ্ট করার চেষ্টা করে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা বাধা, জনসমক্ষে কেলেঙ্কারি এবং পারিবারিক চাপ তাদের স্বপ্নকে ক্রমাগত পরীক্ষার মুখে ফেলে বলিউডের অনিশ্চিত জগতে।
যদিও, বাবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে করিশ্মা তার হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে এবং জানায় যে সে আসমানের সঙ্গেই থাকতে চায়। অজয় তাকে একটি স্টাডিরুমে আটকে রাখে, কিন্তু করিশ্মা সেখান থেকে আসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে আসমান ও পারভেজ অজয়ের বাড়ি থেকে করিশ্মাকে উদ্ধার করে। শেষে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের দিন এসে যায়। অবশেষে দুজনে বিয়ের কাগজে সই করতে যাবে, তার আগেই ঘটে অঘটন। অজয় সেখানে এসে তাদের আটকায় এবং তৈরি হয় এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। ঠিক সেই সময় আসমানের মা নীতা এক চমকপ্রদ সত্য প্রকাশ করে। জানা যায়, আসমান এবং করিশ্মা সৎ-ভাইবোন–অজয়ের সঙ্গে নীতার অতীত সম্পর্ক থেকেই আসমানের জন্ম। এই সত্য প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই আসমান এবং করিশ্মার বিয়ের পরিকল্পনা থেমে যায়।
এরপর এই সত্যকে মেনে নিয়ে আসমান ও করিশ্মা বন্ধু হিসেবেই থাকার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আলাদা হয়ে যায়। অন্যদিকে আসমান তার টিম নিয়ে গফুর ইসমাইলের সঙ্গে মিলে চলচ্চিত্র প্রযোজনার কাজে যুক্ত হয়। এদিকে জারাজ, ফ্রেডি এবং জিজিবয় এক ষড়যন্ত্র করে নীতা ও অজয়কে একসঙ্গে বসার ব্যবস্থা করে। তারা দু’জনকেই ব্ল্যাকমেল করে সোডাওয়ালা প্রোডাকশন্সের নতুন পারিবারিক ড্রামা সিরিজ দ্য বাস্টার্ডস অব বলিউড-এ অভিনয় করার জন্য বাধ্য করে, যেখানে আসমান ও করিশ্মাও অভিনয় করবে। সিনেমা তৈরির পটভূমিতে পল্লবিত আরিয়ানের ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’-এর গল্প, যার পরতে পরতে রয়েছে টানটান উত্তেজনা।
সিরিজের মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন লক্ষ্য। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন সাহের বম্বা ববি দেওল, মনোজ পাহওয়া, মোনা সিং, মনীশ চৌধুরী, রাঘব জুয়াল, আনিয়া সিং, বিজয়ন্ত কোহলি, রজত বেদি এবং গৌতমী কাপুর। ক্যামিও চরিত্রে রয়েছে ২১ জন তারকার বিশেষ উপস্থিতি–যার মধ্যে উল্লেখ্য সলমন খান, আমির খান, রণবীর কাপুর, রণবীর সিং প্রমুখ বলিউডের বড় বড় নাম। নেটফ্লিক্সে স্ট্রিমিং হচ্ছে ‘দ্য ব্যাডস অফ বলিউড’। আপাতত একটিই সিজন, যার পর্ব সংখ্যা সাত। আরিয়ানের পাশাপাশি সিরিজ সৃজনে রয়েছেন বিলাল সিদ্দিকি ও মানব চৌহান। স্যাটায়ারধর্মী এই সিরিজের কাহিনি লিখেছেন আরিয়ান, বিলাল ও মানব। মিউজিক শাশ্বত সচদেব। প্রযোজনা গৌরী খানের রেড চিলিজ এন্টারমেন্ট।

গেছি বারবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব - ময়ূরী মিত্র

বইপাড়া পথ
ময়ূরী মিত্র
কলেজস্ট্রিটে গিয়েছিলাম৷ স্কুলের জন্য কিছু খাতাপত্র, পেন, রংপেন্সিল, মোম রঙ কেনার ছিল৷ সেদিন আকাশ মেঘলা৷ কিন্তু বাতাসে কটকটি লু৷ এমন দিন দগ্ধ করে বেশি৷ মন চায় মেঘের আকাশ এবার বৃষ্টি দিক৷ অথচ বৃষ্টির চিহ্নমাত্র না রেখে মেঘ শুধু তাপ নিয়ে ঘুরপাক খায়৷ মহাবোধি সোসাইটির উল্টোদিকের দোকান থেকে খাতা পেন কিনছি৷ এ দোকান খুব পুরোনো। কলেজজীবন থেকেই দোকানটা দেখছি। এক ভদ্রলোক আর তাঁর স্ত্রী দু-জনে মিলে দোকানটা চালান। ভীষণ জলতেষ্টা। মুখ ফুটে অবশ্য বলিনি। ভদ্রমহিলা নিজের একটি মাটির বোতল এগিয়ে দিলেন। মাটির জল ঠাণ্ডা৷ ঢকঢক করে খেয়ে নিলাম৷ আরেকটা জাগ এগিয়ে এল৷ বললাম “না না আর লাগবে না৷” উনি হেসে বললেন “ম্যাডাম আপনার তেষ্টা মেটেনি ৷”
“মেটেনি আপনি কী করে বুঝলেন?”
বইপাড়ার বউ বললেন “আমার মা বলতেন, জল খেয়ে কেউ যদি ঠোঁটের শেষ বিন্দু মুছে নিয়ে ইয়া বড়ো ঢোক গেলে…তার মানে তার এখনো তেষ্টা বাকি আছে ৷”
আমি ইতস্তত করছিলাম “আপনার কত্ত জল খেয়ে নিলাম !”
“তাতে কী! সামান্য জল। আসলে আমাদের উচিত কেউ জল চাইলে দুটি বাতাসা দেওয়া৷ সেটা পারলাম না৷ সরি !”
দাম মিটিয়ে কলেজ স্কোয়ার জলাশয়ের কোনার দিকে এলাম জলজিরা খাব বলে৷ বেশ কয়েকটি জলজিরা লেবুপানি লস্যির দোকান এখানে৷ প্রতি দোকানে লেবুগুলো মালা করে ঝোলানো৷ একটি দোকানে লেবুর মালার সঙ্গে জুঁইয়ের মালা৷ সারা দোকানে লেবু-জুঁইয়ের মিশ্রিত গন্ধ৷ জলজিরা খাচ্ছ্ন। দোকানি লস্যি গুলছে। এই প্রথম লস্যি গোলার থালা দেখলাম৷ থালার ঠিক মাঝখানে ফুটো৷ তার মধ্যে সরু লাঠি ঢুকিয়ে লস্যি গুলতে হয়৷ মেঘ সরে বিকেলে সূর্য দেখা যাচ্ছে৷ একটি ভ্যান এসে সামনে দাঁড়াল৷ চালক লস্যি খাবেন৷ দোকানি বিরক্ত৷ বারবার ভ্যান সরাতে বলছেন৷ অবাক লাগল৷ জিজ্ঞেস করলাম “আরে উনি তো আপনার লস্যিই খাচ্ছেন৷ খেয়ে ভ্যান সরিয়ে দেবেন৷ আপনিই বা তাড়াহুড়ো করছেন কেন?”
অদ্ভুত একটা কথা বললেন লস্যিবিক্রেতা!
“আমাদের গ্রামের বুড়িরা বলে সূর্যাস্ত দেখে ভবিষ্যৎ তাপের আন্দাজ মেলে। সূর্যাস্তের সূর্য যদি গাঢ় হলুদ হয়, পরের দিন তাপ আরো বাড়ে!”
ইয়ার্কি দিলাম “ও সূর্যাস্ত দেখে পরের দিন কত দই কত মালাই আর বরফ লাগবে সেটা মেপে রাখেন?”
“হুঁ৷ নয়া কিছু চিনতে গেলে যা চলে গেল সেটা তো আগে বুঝব!”
মনটা এলোপাথাড়ি হল৷ এ পাড়ায় বাস করত প্রিয় যুবক৷ আমার বন্ধুর দাদা৷ খানিকটা হয়ত আমারও৷ মুগ্ধ হয়ে তার ইংরেজি শুনতাম। নব্বইয়ের দশকের তুলনায় সরল সে মানুষ। মা নিজের জেদ রাখতে বিয়ে দিলেন পাগলের সঙ্গে।
অভিযোগ দূরে থাক, সে পাগলকেই সে মন দিয়ে ভলবাসল। ছেলে জন্মাল, সেও মেন্টালি চ্যালেঞ্জড৷ পাগল বউকে তার বাপের বাড়ির লোক নিয়ে গেল ফের৷ ভাবতে পারেন, তার পরেও সাদাসিধে বর, বউটাকে কাছে আনার চেষ্টা করে গেছে৷ পাগল সন্তানের দায় মেটাতে মেটাতে বাড়ি ঘর সব বিক্রি করে ফেলল আমাদের সেই দাদা৷ তারপর একদিন মরেও তো গেল…৷ পেটে নাকি প্রচুর জল জমেছিল! জীবনে কটা সূর্যাস্ত সে দেখেছিল তা জানি না৷ নিজের অন্তরের তাপ হয়ত নিজেই মাপতে পারেনি সে৷ শুধু পাগল ছেলেটার নাম রেখেছিল পার্থিব৷
৩
সেতুপথ
কলেজস্ট্রিট থেকে ট্যাক্সিতে নাগেরবাজার ফিরছিলাম৷ ইদানিং হলুদ ট্যাক্সি পাওয়া যায় না।
কাল পেয়ে গেলাম। মন ভালো হল। পথে বেলগাছিয়া ব্রিজ পড়ল। এ ব্রিজ আর জি কর হাসপাতাল গেট থেকে শুরু হয়ে শেষ হয় বেলগাছিয়া বাসস্টপে। পুরোনো ব্রিজ। তাই ঘন ঘন সারাইয়ের নামে ধ্যাসস্টামো করা যায় না। জন্মকাল থেকে দেখছি অজগর হয়ে পড়ে আছে। গ্রীষ্ম বর্ষা শরৎ বসন্তে। বসন্তের গোড়ায়, যখন শীত অল্প হয়ে আছে আবার বসন্তও মধুর শ্বাস ফেলছে কানে গলায়—ঠিক সেই সময় কতবার যে হেঁটে ব্রিজ এপার ওপার করতাম৷ নীচ দিয়ে রেলগাড়ি যেত৷ ধাড়ি হয়েও ব্রিজ থেকে চলন্ত মালগাড়ি দেখতাম৷ মনে হত ব্রিজও রেলগাড়ির মাথায় চেপে বসেছে৷ এপার ছুটবে!
ব্রিজের একপাশে পরেশনাথের মন্দির৷ অন্যদিকে মুসলমান পাড়া৷ তখন অবস্থানগত বিভাজন ছিল৷ মনের নয়৷ মনে আছে ঈদের দিন মুসলমানরা ব্রিজের ওপর বসে নামাজ পড়তেন৷ খুব আনন্দ সেদিন আমাদের৷ আরে আমার জীবনের প্রথম বাড়িটাই তো বেলগাছিয়ায়। ঠাকুরদাদার ভাড়া করা বাড়ি অবিশ্যি। তাতে কী! বাড়ি আবার একার হয় নাকি! বাড়ি তো সবার! আত্মীয় পরিজন এমনকি প্রতিবেশীরও৷ ফলে ফ্ল্যাটবাড়িগুলোকে আলাদা না করে গোটা বাড়ি ভাবতাম৷ বাড়ির অবাঙালী ছেলেগুলোকে জুটিয়ে চলে যেতাম ব্রিজে নামাজ পড়া শুনতে৷ সাদা টুপি পরা মানুষগুলো সেদিন আমার ত্রাতা৷ মনে মনে বলতাম—কাকুরা আরও নামাজ পড়ুন৷ রাত অব্দি যেন ব্রিজ বন্ধ থাকে৷ যাতে আমার স্কুলের যাওয়ার চান্সটাই না থাকে ৷
কখনো কখনো রাতের বেলা মায়ের সঙ্গে শ্যামবাজার যেতাম। শুধু ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ব্রিজ দেখব বলে। পরেশনাথ আর রেলপথের মাঝে শিবমন্দির তখন জমাটি হত দুধ বেলপাতায়। সে সময় মন্দির মসজিদ কোনোটায় টুনির আলোর বাড়াবাড়ি ছিল। কম পাওয়ারের বাল্ব জ্বলত। মানুষের বোধহয় দেবতায় বিশ্বাসটা অগাধ ছিল। তাই টুনি কি গুচ্ছের টিউব জ্বালাতেন না কোনো ধর্মের ভক্তরা৷ পরেশনাথের ঝিলে কম আলো ছায়া তৈরী করত ৷
ব্রিজ থেকে নজর করলে পরেশনাথ টপকে আমাদের ফ্ল্যাটবাড়ির ছাদ দেখা যেত৷ ব্রিজ থেকে নিজের বাড়ির ছাদ খোঁজ এক মস্ত নেশা হয়ে দাঁড়াল আমার। মা খুব বকতেন। বারবার আমায় ছাদে নিয়ে গিয়ে বলতেন—উল্টোটা কর৷ ছাদ থেকে ব্রিজ খোঁজ৷ পারতাম না৷ দর্শন কি ভাইস ভার্সা হয়! দৃষ্টিতে মোহ থাকে৷ লোভ থাকে৷ এগুলো যখন জীবন থেকে যায় তো একেবারে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কিন্তু থাকাকালীন হৃদয়নন্দিত লোভ কখনো দিকভ্রষ্ট হয়েছে বলে জানিনা৷
ফলে কাল রাতেও যখন জ্যামে গাড়ি থামল ব্রিজে
বাড়ির ছাদ খুঁজলাম আমি৷
না আমি দেখতে পাইনি৷
তবে দেখতে যে পাইনি সেটা বুঝেছি৷
যা দেখতে পারতাম তা দেখিনি!
পুরোনো লোভ নতুন করিনি ৷
যথার্থ নিবেদনই বিনোদনের সত্য - পঞ্চানন মণ্ডল

যথার্থ নিবেদনই বিনোদনের সত্য
পঞ্চানন মণ্ডল
শিল্পী অগ্নিভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী অর্ঘ্য সেন একালের গায়কদের সম্পর্কে খানিকটা হতাশা প্রকাশ করেই বলেছিলেন যে তাঁরা তাল লয় ও স্বরলিপি বজায় রেখে গান বটে, কিন্তু রবীন্দ্রসঙ্গীতকে আত্মস্থ করা ও গভীর অনুভবের পরিচয় সেখানে থাকে না। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, সাগর সেন-এর মত পুরুষ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীদের যুগের পরপরই যিনি আমাদের আলোকিত করেছিলেন সুরের সাধনায়, তিনি আমাদের প্রণম্য অর্ঘ্য সেন। অধুনা বাংলাদেশে তাঁর জন্ম ও শৈশব কাটার পর অনেক প্রতিকূলতা অতিক্রম করে কলকাতায় এসে পৌঁছান এবং এখানেই শুরু হয় তাঁর গান শেখা; যদিও গানের প্রতি ভালবাসা ও হাতেখড়ি তাঁর মায়ের সূত্র ধরেই। অশোকতরু বন্দ্যোপাধ্যায়, সুপ্রভা সরকার, দেবব্রত বিশ্বাস, দিলীপ কুমার রায়, কমল দাশগুপ্ত এমনই প্রথিতযশা গুরুদের কাছে তাঁর তালিম নেওয়ার ইতিহাস থাকলেও তিনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন নিজের গায়কী ও শৈলীর সঙ্গে শৈল্পিক স্বাতন্ত্র্যের ইতিহাস। তিনি নজরুল গীতি দ্বিজেন্দ্রগীতি অতুলপ্রসাদের গান আধুনিক গানে পারদর্শিতার পরিচয় রাখলেও রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী হিসেবেই তাঁর অভিনবত্ব ও বিশেষ খ্যাতি প্রকাশ পেয়েছে বলে সঙ্গীত মহলের ধারণা। অর্ঘ্য সেন মনে করতেন এবং তা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, রবীন্দ্রসঙ্গীত গভীর অনুভবের বিষয়, তার প্রতিটি শব্দ, পংক্তির সূত্র ধরে পুরো গানের শরীরের মধ্যে রয়েছে সুদূর জগৎ ও কালের গভীর আহ্বান, যা একজন সাধক শিল্পীর হৃদয় থেকে তাঁর কণ্ঠে বাঙ্ময় রূপ পায়। গানের রস না বুঝে, তার অন্তর্নিহিত প্রাণের উপলব্ধি না করে গান গাওয়া উচিত নয়। গান একজন গায়কের সমগ্র সত্তা দিয়েই বিকশিত হবে। তাই খাতা দেখে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাওয়ার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি প্রকাশ করতেন; তাঁর মনে হত, প্রাণে গান না থাকলে, গানে প্রাণ থাকে না। গান পরিবেশনার সময় তিনি গানের লয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। স্বরলিপি মেনে সুরের যথার্থতা উপলব্ধি হতে পারে প্রকৃত লয়ের সূত্র ধরে। তাঁর যেকোনো গানের লয়কারী তাঁর গভীর বুদ্ধিমত্তা ও অনুভবের পরিচায়ক। ‘আমার মন চেয়ে রয় মনে মনে’, ‘প্রভু আমার প্রিয় আমার’, ‘ছিন্ন পাতার সাজাই তরণী’র মতো অনেক গানে তাঁর লয় ও গায়কীর বিশিষ্টতা আর সমস্ত গায়কের থেকে তাঁকে আলাদা করেছে। এই মনোনিবেশের জন্যই হয়তো কিছু রবীন্দ্র স্বরলিপির কিছু ত্রুটি তাঁর চোখে ধরা পড়েছে। গানের প্রকৃত প্রাণ ফুটিয়ে তোলার জন্য অবগ্রহ, শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার জায়গা তাই তিনি নিজের মত করেই নির্বাচন করেছেন। গুরু দেবব্রত বিশ্বাস রবীন্দ্রগানে যে নিজস্বতা দেখিয়ে গানের তাত্ত্বিকতাকে গতানুগতিক মনোরঞ্জনের থেকেও অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন, সেই ভাবধারাকে সমর্থন জানিয়েছেন অর্ঘ্য সেন, কিন্তু রেকর্ড করার সময় পরিচালকের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হত বলে খানিক আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন। দেবব্রত বিশ্বাসের ভরাট গলায় মানানসই যা, তাকে অনুকরণ না করেই নিজের অপূর্ব সুরেলা গলায় প্রতিটি গান পরিবেশন করে গেছেন অর্ঘ্য সেন। অজ্ঞ শ্রোতার দায়সারা প্রশংসার প্রত্যাশা যেমন তিনি করেন নি, তেমনই প্রচারের আড়ালে থেকে নিজের সঙ্গীত সাধনাকে ও উপলব্ধিবান ছাত্রদের মধ্যে রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রকৃত সুষমাকে প্রবাহিত করে যাওয়ার প্রয়াস নিয়েছেন। নবতিপর বরিষ্ঠ সাধকের এই আত্মগোপনের জন্যই হয়ত, ১৪ই জানুয়ারি তাঁর প্রয়াণের খবর কয়েকজনকে দিতে তাঁদের কেউ কেউ বললেন, অর্ঘ্য সেন বেঁচে ছিলেন? তিনি বেঁচে ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতকে প্রাণের গানে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, উত্তরসূরীদের মধ্যে সেই প্রাণপ্রেরণাকে সঞ্চারিত করে যাবার জন্য। তাঁর ‘ধায় যেন মোর সকল ভালবাসা প্রভু তোমার পানে’ গানটির গায়কী শুনে শ্রদ্ধায় চক্ষু নিমিলিত হয়, বুজে আসে, এই প্রভুর প্রতি তাঁর গভীর আত্মসমর্পণ স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ, তাঁর জীবনদেবতা, গায়কের ইষ্টদেবতাকে ছুঁয়ে সুরের রসসাগরে বাণীরূপ ধারণ করেছে একটি সত্য, তাই অর্ঘ্য, যেখানে যথার্থ নিবেদনই বিনোদনকে সার্থকতা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার
১। https://robbar.in/daily-update/an-obituary-of-singer-argha-sen/
